[১] চট্টগ্রামে গর্ভপাত কালে নারীর মৃত্যু, ক্লিনিকের মালিকসহ পাঁচজন গ্রেফতার

রাজু চৌধুরী:[২] ‘ধর্ষণে’ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া রিফাত সুলতানা (২৫) নামে এক মেয়েকে গর্ভপাত করানোর জন্য চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার সিটি হেলথ্ ক্লিনিকে নিয়ে যায় ধর্ষক প্রেমিক। কিন্তু মেয়েটি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। করোনায়় মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে অপচেষ্টা চালায়।

[৩] বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, ক্লিনিকে ডাক্তার ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে প্রশিক্ষণ ছাড়াই নার্স পরিচয় দেওয়া কয়েকজন নারী অবৈধভাবে তার গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করে ফলে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। একদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ভালো কোনো চিকিৎসকের কাছে মেয়েটিকে পাঠায়নি ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে ক্লিনিকটিতে নেওয়ার একদিন পর মেয়েটি মারা গেলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করে কথিত প্রেমিক। মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা ক্লিনিকে উপস্থিত হয়ে তাদের সন্দেহ হলে ঘটনার ১২ দিন পর চকবাজার থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কথিত প্রেমিক আবুল কালাম মো. সেজানকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আবুল কালাম মো. সেজান।

[৪] এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার ক্লিনিকটির মালিক হারুন অর রশিদসহ (৬০) চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি তিনজন হলেন, প্রতিষ্ঠানটির কথিত নার্স অলকা পাল (৩২), গীতা দাস (৪৫) ও সাবিনা ইয়াসমিন চম্পা (৪৩)। তাদের মধ্যে অলকা পাল বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বাকি তিনজনকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ।
এসএম মেহেদী হাসান বলেন, গর্ভপাতে মৃত্যুর বিষয়ে স্বজনরা ১২দিন পর থানায় অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নেমে আমরা দেখতে পাই, এটা অবহেলায় মৃত্যু নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গর্ভপাত করানো অবৈধ হওয়ার কারণে জানাজানি হওয়ার ভয়ে মেয়েটির অবস্থার অবনতি হলেও ক্লিনিকটি ভালো কোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। মেয়েটির গর্ভপাত করোনার জন্য যারা যুক্ত ছিল, তাদের কেউ চিকিৎসক নয়। যে নার্সরা অংশ নিয়েছিল তাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। তিনি বলেন, বুধবার সিটি হেলথ ক্লিনিকের মালিক হারুন অর রশিদ, নার্স অলকা পালসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনকে জানানো হলে তিনি বুধবার রাতে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালান। এ সময় হারুনকেও আমরা হাজির করি। তখন ক্লিনিক চালানোর জন্য কোন অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। শুধুমাত্র একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে সিটি হেলথ ক্লিনিকটি চালানো হচ্ছিল এতদিন ধরে। পরে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেন সিভিল সার্জন। এস এম মেহেদী হাসান আরও জানান, মেয়েটিসহ অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার কোনো তথ্য সিটি হেলথ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে না, যাতে তাদের অপকর্মের প্রমাণ না থাকে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানো হচ্ছিল। শুধুমাত্র অবৈধ গর্ভপাতের বিষয়টি গোপন করার জন্য মেয়েটির অবস্থার অবনতি হলেও ভালো কোনো হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে পাঠায়নি সিটি হেলথ ক্লিনিকের লোকজন। এভাবে তিলে তিলে মেয়েটিকে মেরে ফেলা হয়েছে।

[৫] সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) পলাশ কান্তি নাথ, সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) মুহাম্মদ রাইসুল ইসলাম ও চকবাজার থানার ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমীন উপস্থিত ছিলেন।





Was this helpful?

117 মন্তব্য

  1. This is the proper weblog for anybody who wants to seek out out about this topic. You understand so much its virtually hard to argue with you (not that I really would need…HaHa). You definitely put a new spin on a subject thats been written about for years. Great stuff, just nice!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে